মাঝে মাঝে মন চায় মরীচিকার পিছনে ঘুরতে। দেখিনা, যদি পেয়ে যাই!!! না পাইলেও বা কি, চেষ্টা তো করছি, এইটাই কম কি। অনেকে তো চেষ্টা করতেও ভয় পায়। আমি নাহলে সেদিক দিয়ে অনেকটাই সাহসী, এইটাই বা কম কি!! মূলত আমি আসলে abnormal। এই abnormality একটা বয়স পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, আমার টা একটু যেন বেশিই বয়স পর্যন্ত রয়ে গেসে। আমারে current এ শক দেয়া দরকার।
মাঝে মাঝে মন চায় don’t care মুডে জীবনটা চালাই। সবগুলারে কমু, “হুররর বাল, ভাগ এদিক থেকে”। কিন্তু বাস্তব জীবনটা বড়ই কঠিন। সামান্য লাভের জন্য আত্তসন্মান বোধকে বিসর্জন দিতে হয়। যাকে আমরা বলি “জীবন বাঁচান ফরজ”। আমরা প্রত্যেকটা মানুষই পরিচিত মহলে খুবি আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, কিন্তু কর্ম ক্ষেত্রে অতটা নয়। কারন একতাই, কর্ম ক্ষেত্রে ভাব দেখাইলে টাকা আসে না। মুখে মুলা ধইরা বইসা থাকার চেয়ে ভাব কম দেখানোই তখন বুদ্ধিমানের কাজ হয়ে দারায়। আর আত্মমর্যাদা দেখানোর ক্ষেত্র তো আছেই (নিকট আত্মীয় স্বজন)।
মাঝে মাঝে মন চায় সন্ন্যাসী হয়া যাই। আমার কেহ নাই, আমার কেহ নাই টাইপ জীবন। ইয়া বড় বড় জট পাকানো চুল নিয়ে ঘুরে বেড়ান টাইপ সন্ন্যাসী না, সংসারে বসবাস করেই নিজের মনকে এদের থেকে আলাদা করে রাখার মত জীবন। ফিলিংস হীন সুখের জীবন। যা হচ্ছে, তা হতে দেয়া। যা ঘটবে, তা মেনে নেয়া। ভালই হত জীবনটা। আমি এক-দুইদিন ট্রাই ও করেছি। এই ধরনের জীবন এক-দুইদিনই ভাল লাগে। তারপর আর পারা যায় না। মনটা তো মানবিক,(মাঝে মাঝে পাশবিকও হয়ে যায়) আর তাই দীর্ঘস্থায়ী ভাবে পারা যায় না।
মাঝে মাঝে মন চায় দূরে কোথাও হারিয়ে যাই। যেখানে কেও আমারে চিনবে না, আমি কাওরে চিনব না। তবে জায়গাটা কোন নদী বা সাগর পার হলে ভাল হয়। এইটা কখনোই ট্রাই করা হয় নাই। কারন এই ইচ্ছাটা মনের ভিতর আসে যখন আম্মার সাথে মারাত্মক ঝগড়া হয়। মার সাথে ঝগড়াও স্থায়ী হয় না, ফলে এমনটা করার প্রশ্নই উঠে না।
মাঝে মাঝে মন চায় পাশের বাসার কিশোরী মেয়েটাকে নিয়ে নির্মম হয়ে যাই। সত্যি বলছি, এমন ইচ্ছাও মনে জাগে। এর চেয়ে কঠিন, অমানবিক ইচ্ছাও অহরহ মনের ভিতর টিপ টিপ করে জ্বলে আর নিভে।
মনের ভিতর এত আবোল তাবল ইচ্ছাগুলোকে দেখে কেন যেন মনে হয়, এই মনটা আমার না। এই মনের গতিবিধি শত্রুর মত, আমাকে সবসময় ডুবাতে চায়, ধংস করে ফেলতে চায়। আমাকে পশুর মত পাষণ্ড বানাতে চায়। নিজের ভিতর এমন একটা কঠিন ভাইরাস নিয়ে ৩০টা বছর পার করে দিলাম, এখনও ধ্বংস হই নাই। আলহামদুলিল্লাহ।
আমি কিভাবে টেকি হলাম? কিভাবে কিভাবে যেন হয়ে গেলাম। টুইটারে যাদেরকে আমি follow করি, তাদের বেশির ভাগই টেকি। এদের বেশির ভাগ টুইটই হল, “আজকে নোকিয়ার বাপ মইরা গেছে”, “কালকে নোকিয়ার নতুন ১টা পোলা হইব”…এই ধরনের। তার মধ্যে সেই টুইটগুলা আবার বেশির ভাগই ইংরেজিতে। আমার আবার ইংরেজিতে এলারজি আছে। ইংরেজ এবং ইংরেজি দুইটার একটারেও দেখতে পারি না। আমি following দের উপর পুরাই বিরক্ত হয়ে গেলাম। বিরক্তি যখন চরম সীমানা অতিক্রম করল, ঠিক তখনি আমি ভাবলাম যে আমিও টেকি হব। আমি টেকি হয়া এইসব টেকিদেরকে উচিত শিক্ষা দিব। আমার এখনো মনে আছে আমার প্রথম টেকি টুইটটার কথা। অনেকগুলা RT হয়েছিল। আমার প্রথম টেকি টুইটটা ছিল: “the main difference between symbian & android is: symbian is symbian & android is android.”। ব্যাস, হয়ে গেল। দর্শক শ্রোতাদের (followers) ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় আমি ধীরে ধীরে পুরা দমে টেকি হয়ে গেলাম। পুরা-দমে টেকি হবার পূর্বে আমি খালি ঝারি খাইতাম। এই দিত ঝারি, ওই দিত ঝারি। হুর মিয়া, আপনে ১টা ছাগল, আরে ভাই, আপনে দেহি কিচ্ছু বুঝেন না….এইসব আমাকে প্রতিনিয়ত শুনতে হত। এইসব শুনতে শুনতে আমি একদম খাঁটি সোনা হয়ে গেলাম। আমি যখন যে ডিভাইসটা চালাইতাম, সেইটারই প্রেমে পইড়া যাইতাম। শুধুমাত্র আইফোন ছাড়া সমস্ত ফোনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলাম আমি। এমনকি দোজখিদের (আন্ডু) ফোনেরও আমি ব্যাপক প্রশংসা করেছি। আসলে প্রেম ছাড়া আপনি কখনই কোন বিষয়ে সফল হতে পারবেন না। সকল ডিভাইসের প্রতি প্রেম আমাকে আরও অনেক বেশী পোক্ত করেছে। আমি যেন এই ডিভাইসগুলার জন্যই এই ধরাতে এসেছি। কায়া, মায়া আর প্রেম, এই তিনে মিলেই টেকিরুবেল। সিম্বিয়ান ফোনটা যেদিন বিক্রি করি, সেদিন রাতে আমি ঘুমাতে পারি নাই। স্বপ্নে দেখি ফোনটা যার কাছে আছে সে অনেক ভাল মানুষ। অতি যতনে ফোনটা ইউজ করতাছে। তারপর মনটা হাল্কা হয়। প্রেমের চেয়েও আরও একটা মুখ্য বিষয় আমাকে টেকি বানায়ছে। সেই মুখ্য বিষয়টা হল: টিপাটিপি। প্রথমে আমি টিপাটিপি করতে ব্যাপক লজ্জা পাইতাম। ভাবতাম যদি নষ্ট হয়ে যায়।!!! গরিবের ঘরে জন্ম নেয়ার কারণে মনটা built in ছোট ছিল। আমি নোকিয়া C6 টুইটার (gravity) ছারা আর কোন কিছুই ইউজ করি নাই। যখন থেকে টিপাটিপি শুরু করে দিলাম, তখন থেকেই আমার টেকি ব্যাপারে উত্তরোত্তর উন্নতি ঘটতে থাকল। সুতরাং যারা আমার মত টেকি হতে চান, তাদেরকে বলব অবশ্যই আপনার ডিভাইসটাকে টিপুন, নির্ভয়ে টিপুন। নষ্ট হবে না, নষ্ট হলেও কিছু হবে না। মোবাইল নষ্ট হলে আপনি মারা যাবেন না। বলতেছিলাম টেকিরুবেল হবার কথা। আমি আসলে জন্মগত ভাবেই টেকি প্রতিভা নিয়ে জন্ম নিয়েছি। কিন্তু উপযুক্ত প্লাটফর্ম পাচ্ছিলাম না। যার দরুন আমার বিকাশ হতে এত দেরি হল। মজার ব্যাপার হল, আমার বিকাশের কিছুদিন পরেই ব্র্যাক ব্যাংকও বিকাশ নামে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করল। আমিও হিট, বিকাশও হিট। মনটা কেন জানি বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। তাই আজ টেকি রুবেল হবার গল্পটা অসমাপ্তই থেকে যাক। অন্য আরেকদিন নাহয় অনেক সময় নিয়ে লিখব।
ইদানীং মানুষের সঙ্গ পছন্দ হচ্ছে না। এর মানে এই না যে পশু পাখির সঙ্গ পাইতে মন চায়। আমার বলার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে কারো সঙ্গই এখন আমাকে তৃপ্তি দেয় না। সবকিছু বিশেদাগার। সবাই আছে সবার তালে। তারপরও ভাবে অন্য কেহ কেন আমার তালে থাকে না। আমি নিজেই থাকি নিজের তালে, সেইদিকে আমার খেয়াল নাই।
আমি দেখেছি সমস্ত সম্পর্কগুলাই একদিন স্লো হয়ে যায়। এই স্লো হওয়ার শুরুটা ঘটে চাওয়া পাওয়ার হিসেব কষাকষি থেকে। মানুষ হচ্ছে এমন একটা প্রাণী, যে লাভজনক কিছুর পিছনেই সারাদিন ছুটতে পসন্দ করে। এই বিষয়টাকে মন্দ মনে করলে মন্দ, ভাল মনে করলে ভাল। দুই ধরনের মতবাদই আমার সমাজে প্রচলিত। এক দল লাভের পিছনে চলা কে স্বাগত জানায়, আরেক দল মানবিক দিক ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। যদিও দ্বিতীয় প্রকৃতির লোক সংখ্যা খুবি কম। আমি আমার জীবনে এমন মানুষ খুবি কম পেয়েছি। যে কয়েকটা পাইছি, সেগুলাও আবার নিজেদের স্বার্থেই আমাকে মানবিক হবার শিক্ষা দিয়েছে। আমার শ্বশুরের একটা বিখ্যাত ডায়লগ আছে, সব শালাই **দির পুত। আমি আমার শ্বশুরের সাথে এই মুহূর্তে একমত।
আমি আজ অনেক হতাশা নিয়ে লিখতে বসলাম। আসলে হতাশা না, আমার মনটাই ব্যাপক আকারে খারাপ। মন খারাপের সূত্রপাত খুবি পার্সোনাল। কিন্তু যা লিখতেসি, মন খারাপের বিষয়গুলা এসে পরেছে। শুধু ক্রিয়া সম্পাদনকারীদের নাম এবং ঘটনা উহ্য আছে। তাদের নাম, ঠিকানা বললেই আমার মন ভাল হয়ে যাবে না। বরং তাদের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই মন ভাল হতে পারে। সেই প্রত্যাশায়ই এই বগড় বগড়।
আমার মন খারাপের আরও একটি কাড়ন হল, আমার শুধুই মরীচিকার পিছনে ছুটতে মন চায়। আমার কাছের মানুষগুলার শত বাধা শর্তেও সেই দিকে ছুটে চলি। দিন শেষে হিসাব মিলাইয়া দেখি আমার লাভের ঝুড়িতে ক্ষতি দিয়ে ভরপুর। আমি তাও সুখি থাকতে চাই। কিন্তু চারপাশের হিসাব নিকাশ আমাকে পাগল বানায়া ফেলে। আমি হয়রান হয়ে যাই। এভাবে প্রতিনিয়ত হয়রান হতে আর ভাল লাগে না। তাই চিন্তা করতেছি এখন থেকে পুরো দমে কমার্শিয়াল হয়ে যামু। জীবনটা আসলে আমার একান্তই নিজের। আমার জীবনের ঝড় ঝাপটা আমাকেই সামাল দিতে হবে, আমার জীবনটা আমাকেই সাজাতে হবে। আমি কেন খামাখাই পিছনে পরে থাকব?
আমার প্রথম smartphone কিনার পিছনে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল খুব ভাল করে টুইট করতে পারা, বিশেষ করে gravity দিয়ে টুইট করা। আমি gravity কে প্রথম দেখেছিলাম বুয়েটে। সেদিনই আমার সাথে আরাফাত ভাইয়ের প্রথম দেখা হয়। আমার ফোনটায় (nokia classic) বাংলা ভেঙে ভেঙে আসত, সেইটা সারানোর জন্যই বুয়েটে গেছিলাম। আরাফাত ভাই আমার মোবাইলে operamini 6 ভইরা দিল। অথচ ওই মোবাইলটা operamini 5 ভরার মতই যোগ্যতা ছিল না। আরাফাত ভাই হুজ্জতি কইরা ভইরা দিল, ভালই চলল। তারপর উনার হাতে দেখলাম চার কোনাইচা ১টা ফোন। ওই ফোনে টুইটের রিপ্লাই আসলে ring হয়। আমি তাজ্জব হয়া গেলাম। ধইরাই নিলাম আরাফাত ভাইয়ের মত বড়লোক দুনিয়াতে আর একটাও নাই। না জানি কতই না দাম হইব ফোনটার!! জিগাইলাম দড়ে-ভয়ে, উনি কইল মাত্র ১৫ হাজার টাকা। আমি হা হয়া গেলাম, মনে মনে ভাবলাম ১৫ হাজার টাকা দিয়া ফোন কিনছে, ওইটা পকেটে নিয়া ঘুরতে কি হের একটুও বুক কাপে না। (পরে জানতে পারি যে উনার বুক নাই)।
সেদিনই gravity আমার মনে ধরছিল। gravity চালানোর জন্য আমি স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। একদম কল্পনা বিলাস স্বপ্ন। মনে হইত gravity পাইলে আমার জীবনে আর কোন চাহিদা থাকবে না। আমার জীবনের ষোল কণা পূর্ণ হয়ে যাবে। আমার কাছে কেও mention করলেই রিং বাইজা উঠবে, ভাবতেই শিহরিত হয়ে যেতাম। আমি আমার nokia classic ফোনটায় gravity লেইখা শত শত বার গুগলে search দিছি, কিন্তু একবারও নামাইতে পারি নাই। আমার লজিক ছিল, টেকনোলোজিও তো ভুল করতে পারে। যদি ভুলেই একবার ডাউন-লোড হয়া যায়, তাহলে আমারে কে পায়।
অবশেষে আসল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, কিনে ফেললাম gravity এর আবাসস্থল অপারেটিং সিস্টেম সিম্বিয়ান (nokia c6) ফোন। আমি ওই ফোনটা দিয়ে শুধু gravity ই চালায়ছি। (মাঝে মধ্যে রাতের বেলা কিছু মনোরঞ্জন সাইটেও ভিজিট করছি, ওইটা আমার একান্তই পার্সোনাল ভিজিত। আজকে এই ব্যাপারে কিছু বলব না) gravity যে কি পরিমাণ সেক্সি, কি পরিমাণ হট, কি পরিমাণ উম্মাহ (উম্মাহ হল চুমু খাওয়ার ১টা স্টাইল), না চালাইলে বুঝানো যাবে না। যদিও এই উপমহাদেশে gravity চালায় নাই, অথচ টুইটার চালায়ছে, এমন খুব কমই পাওয়া যাবে।
Gravity এর কিন্তু একটা বিশাল বড় দোষও আছে, সেই দোষটা হল ব্যাটারিরে পুরা ধ্বংস কইরা ফালায়। এই একটা দোষ ছাড়া gravity বিশ্বসেরা। পৃথিবীতে যতগুলা টুইটার এপ্লিকেশনের আবির্ভাব ঘটছে এবং ঘটবে, সবগুলাই gravity এর সাথে তুলনীয়। যদি gravity এর কাছাকাছি হয়, তাহলে ওয়াও; আর না হলে ফাউল। সাদা চামড়া ওয়ালা Janole জিনিসই বানায়ছে একটা। বোকা বোকা চেহারার এই লোকটা কিভাবে এই অসাধারণ এপ্লিকেশন বানাইলো, আমি ভেবেই পাই না। I am impressed. I am telling from my heart, he (Janole) is a real techy. (আমি যখন উত্তেজিত হয়া যাই, তখন খালি মুখ দিয়া ইংরেজিই বাইর হয়)।
Gravity এর ব্যাপারে আমি এক কথায় বলতে গেলে বলব, gravity হল ১টা অপারেটিং সিস্টেমের ভিতর আরো একটি অতুলনীয় অপারেটিং সিস্টেম। কি নাই gravity তে!!! ফেসবুক, টুইটার, চেকিইন, টুইটপিক অর্থাৎ social networking এর বস হল gravity। পৃথিবীর ৯০% মানুষই smartphone চালায় social networking করার জন্য। আর gravity সেই ৯০% মানুষের চাহিদাকে সহজ করে দিয়েছে। আমি মনে করি symbian OS এর প্রাণ হল gravity। gravityই symbian কে এখনো বাঁচাইয়া রাখছে। নোকিয়া symbian রে মাইরা ফেলছে, gravity symbian রে বাঁচাইয়া রাখছে।
আবার কেউ কেউ মনে করে “twitter for iphone” বস। এদের মুল সমস্যা হল এরা আইফোন ইউজার না, এরা আইফোন সাপোর্টার। এরা আইফোনের অন্ধ ভক্ত। এইসব অন্ধদের প্রতি আমার পক্ষ থেকে সমবেদনা রইল।
প্রথমেই বলে রাখি এইটা কোন ব্লগ না। এইটা আমার মনের তাৎক্ষনিক (অর্থাৎ বর্তমানের কিছু কথা) কিছু কথা। এইটাকে অনেক বড় একটা টুইটও বলা চলে। যারা এইটাকে ব্লগ হিসাবে পরবেন, এইটা তাদের সমস্যা, আমার না। আমার সমস্যা হল আমি অপ্রাসঙ্গিক কথা বেশি কই। দুনিয়াটা চলেই অপ্রাসঙ্গিকতার উপর। বিশ্বাস না হইলে নিজেই একান্তে একটু হিসাব মিলাইয়া নিয়েন।
আমার কম্পিউটার চালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু লিখতে মন চায়, আর তাই লিখতে বসলাম। কম্পিউতার জিনিশটা ভাল না। আজাইরা ১টা জিনিস।আমি কোনোদিন ক্ষমতায় গেলে কম্পিউটারের অস্তিত্বই রাখুম না। আমি হলাম মোবাইল টেকি। আমি মোবাইলকে আগে বাড়াতেই জন্ম নিয়েছি। এই পৃথিবীতে মোবাইল ছাড়া আর কোন টেকনোলজির অস্তিত্বই আমি রাখুম না।
মোবাইলের মধ্যে আমি আবার আইফোনরে দেখতে পারিনা।জিনিস ভাল, কিন্তু যতটা কয়, ততটা ভাল না। হাসিনা যেমন অনেক কইছিল, কিন্তু কিছুই করতে পারে নাই। আইফোনের অবস্থাও ঠিক তাই। কয় অনেক কিছুই, করে তার চেয়ে অনেক কম। এই ফোনটা কেমনে মার্কেট পাইল সেইটা নিয়া আমি অনেক গবেষণা (মনে মণে)করছি। গবেষণার ফলটা ভাল না। গবেষণায় পরিলক্ষিত হয়েছে যে বেশির ভাগ মানুষই আবাল (বোকাদের চেয়ে যাদের ডিগ্রিটা একটু বেশি) এবং হুট করে টাকা পয়সা হয়ে গেছে, এমন লোকগুলাই আইফোন ইউজ করে। আইফোন হইল টাকার মূর্ত প্রতিক। গাড়ির মধ্যে বইসা আইফোন হাতে লইয়া চুপচাপ কি যেন ভাবাটাই আইফোন ইউজার দের কাম। কোনদিন হয়ত খুইল্লাও দেখে না ভিতরে কি আছে। খুব বেশি হইলে ফেসবুকটা একটু চালায়। নিজের কিছু পিক আপলোড দেয়, তারপর ওয়াও ওয়াও কইরা চিক্ষার পারে।
আইফোনের আরেক ধরনের ইউজার আছে, ওড়া হল শিশু শ্রেণী (বয়স যাই হোক না কেন)। এই শ্রেণীর কাজই হইল গেমস খেলা। কত রঙ্গের গেমস যে এরা খেলতে পারে!!!! ওগো জীবনটাই গেল খেলতে খেলতে।( তুই কয় দানে বস মারছস? আমি ৫ দানে মারছি।) বস মারা তো দুরের কথা, বসের সামনে খারায়া কথা কওয়াও তো কখনো কখনো এক দানে সম্ভব হয়ে উঠে না,বাস্তবে আমি এমনটাই দেখছি।
যাক সে কথা। মূল প্রসঙ্গে আসি। বলতেছিলাম কম্পিউটার চালনোর কথা। মাত্র ২ দিনের অভিজ্ঞতায় যা বুঝলাম দিল্লি বহুত দূর। গতকালকেই প্রথম ইউজ করলাম। কম্পিউটার টা ওপেন কইরাই ৫ মিনিট ভোদাই হয়া বইসা রইলাম। তারপর মনে হইল আগামিকাল আমার ফাইনাল এক্সাম, খুব ঘুম ধরল। দিলাম ঘুম। ১দিন পার। ২য় দিনে আবার নিয়া বসলাম। দেখি যে কোন ইন্টারেস্টই পাই না। তারমধ্যে অভ্র কিবোর্ড করল ঝামেলা। কি টিপতে কি টিপা নিজেই ফাফরে পইরা গেসি। টেকি রুবেল এমন embarrassing মুহূর্তে এই প্রথম পড়লো, এমনটাও নয়। টেকি রুবেল এমন অনেক গেঞ্জাইম্মা মুহূর্তে জিবনে বহুবার পরছে এবং সব বারই সেই সকল মুহূর্ত থেইকা খুব ভাল ভাবে উত্তরণও করছে। আর তাইতো টেকি রুবেল বিশ্ব বিখ্যাত হইছে।
২ দিনের বিশাল অভিজ্ঞতায় এখন আমি চোখ বন্ধ কইরা (কীবোর্ডের দিকে না তাকায়া) লিখতে পারি। যদিও একটু slow but steady. কচ্ছপ আমার পছন্দের প্রাণী না, খরগোশই আমার পছন্দের প্রানি। কিন্তু আপাতত আমাকে কচ্ছপ হয়েই থাকতে হচ্ছে। ইচ্ছা করলেই আমি এখন খরগোশের মত দৌড়াতে পারছি না।
কিছু আবল তাবল লিখতে মন চাইল, তাই লিখে ফেললাম। ছোট বেলায় ছড়া পড়ছিলাম (যেইটা আমার জিবনের প্রথম ছড়া) আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম। বাঙ্গালী হিসাবে মুখে খড়িই হয়েছে আগডুম বাগডুম দিয়ে, তাই অভ্যাসটা রয়েই গেছে। শুভ রাত্রি।
অনেকদিন যাবৎ কিছু লিখি না! আসলে লেখার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরন পাচ্ছিলাম না! খাতায় লিখতে ভাল লাগে না! কলম দিয়ে লিখতে খুবি কষ্ট লাগে! হাতের লেখা সুন্দর নয় বিধায় নিজের লেখা দেইখা নিজেই চেইত্তা উঠি, মন খারাপ হয়ে যায়!
লেখালেখি করার জন্য আমার কাছে মোবাইল ফোনই সর্বশ্রেষ্ঠ! হাতের লেখাও সুন্দর হয়, হাতও ব্যাথা করে না!
আমার এই লেখালেখির জন্য প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই নকিয়ার ইলোপ কে! এই ভদ্রলোক আমাকে N9 বানায়া দিসে!
আমি প্রথম লেখালেখি শুরু করি ইন্টারমিডিয়েটে থাকতে! 1st year এ ৬ বিষয়ে ৫ নম্বর পেয়ে (৫টা সাবজেক্টে পাইছি ০০, আর অফশনালে পাইছিলাম ৫ নাম্বার) লেখাপড়া ছাইরা দিছিলাম! তখন আমার আদর্শ ছিল কবি নজরুল ইসলাম! দুঃখু মিয়ার কোন একাডেমিক শিক্ষা ছিল না! এই বিষয়টাই ছিল আমার inspiration! ২-৪ দিন কবিতা লেখার চেষ্টা করতে না করতেই বাপের হাতে চর-থাপর খায়া আবারও কলেজে যাওয়া শুরু কইরা দিলাম! আমার বাপ আমাকে কাজী নজরুল হইতে দিল না! কিছুদিন পর নিজের স্কিল বুঝতে পারলাম! ডাইরী লিখতে শুরু করলাম! লিখতে ভালই লাগত! লিখা শেষ হলে মনটা অনেক হালকা লাগত! মন হালকা লাগাটাই ছিল আমার অনেক বড় প্রাপ্তি, অনেক বড় মুনাফা!
যা কিছু লিখতাম, তা যখন পুনরায় পড়তাম (লিখার কয়েকদিন পর) তখন জীবলায় কামর দিতাম!!! আমি এগুলা কি লিখছি? কেউ দেখলে তো সর্বনাশ! তখনি ছিড়ে ফেলতাম, তারপর পুড়িয়েও ফেলতাম!
এমন করে আমার অনেক লেখা (যেগুলো ছিল নিজের একান্ত কিছু কথা) আমি নিজেই ধংস করেছি! এখন কিছুটা আফসোস হয়! নিজের দোষগুলো কেউ জানুক তা চাইতাম না বলেই লেখাগুলো মুছে ফেলেছিলাম! নিজের দোষ ধরতে পারা যে শ্রেষ্ঠতম গুন তখন বুঝতে পারি নাই! এখন বুঝতে পারি! এখন নিজের দোষকে বলতে, দোষ করার পর মানতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করি না! তবে, যেটা আমার মনের মধ্যে নাই, কল্পনায়ও নাই, সেই ধরনের কোন দোষ জোড় করে চাপায়া দিলে খুবই কষ্ট পাই! এই যেমন ২দিন আগে আমার wife বলল যে আমি নাকি নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বুঝি না! এমন কথা জীবনে প্রথম শুনলাম, তাও আবার বউয়ের কাছ থেকে! অনেক কষ্ট পাইছি!
আমি কল্পনা করতে ভালবাসতাম! গত ২ সপ্তাহ আগে ছাইরা (কল্পনা করা) দিসি, সামনে আবার ধরুম! কল্পনায় আমি অনেক লিখেছি! সেই লেখাগুলো যখন খাতার পৃষ্ঠায় বন্দি করতে চেষ্টা করতাম, হয়রান লাগত! আমি আলসেমিতে বিশ্বসেরা! আর তাই কল্পনার লেখাগুলো কল্পনায়ই মুছে গেছে!
পরিশেষে বলতে চাইঃ আমি এখন থেকে রেগুলার লিখব!
গেছিলাম কমন জেন্ডার দেখতে (বাংলা সিনেমা) বলাকা হলে। খুব বিনোদন পাবার আশায় গিয়ে কিছুটা দুক্ষ পেয়ে চলে আসলাম।
প্রথমেই একটা গুড নিউজ দেই… বলাকা হলে ১০০টাকার টিকেট এখন মাত্র ৫০টাকা। টিকেটের মুল্য অর্ধেক হওয়াটা আমাকে খুবি অবাক করেছে। দিন দিন জিনিসপত্রের দাম বারে, এইটাই সাভাবিক। কিন্টু বলাকার ব্যাপারে ঘতল উল্টাটা।
যাই হক চিনেমা শুরু হল পুর্নিমার নাচ দিয়ে।সিনেমার শুরুতেই নাচ, বুঝলাম সিনেমাটা অনেক ভুগাবে। পরে দেখি ওইটা শুরেস খাটি সরিষা তেলের বিজ্ঞাপন। শুরতেই ভোদাই হয়ে গেলাম।
অনেক ভংচঙ্গের পর শুরু হল সিনেমা। সিনেমাটা শুরু হল বিস্মিল্লাহ দিয়ে। এই ব্যাপারটা আমার কাছে খুবি বিরক্ত লাগে। বিরক্ত লাগে বল্লে ভুল হবে, মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
সিনেমার শুরুটা খুবি ফানি, হাস্লাম কিসুক্ষন। যদিও আমি হিজ্রা দের দেখে কখনো হাসিনা, বরং ঘেন্না করি। কিন্তু অভিনেতাদের দেখে হাসিই লাগ্লো। মোট কথা বিনোদন ভালই পেলাম।
সিনেমাটা কিসুদুর জাওার পর এক হিন্দু বেক্তির সাথে (এই মুভির মেইন ফোকাস) হিজড়ার প্রেম হয়ে গেল। আমারি ঘেন্না লাগা শুরু হল। ঘেন্না একটু পরি কেটে গেল যখন হিজড়াদের ব্যাকগ্রাউন্ড টানা হল। খুবি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিয়েসিল হিজড়াটা। সমাজে মুখ দেখাতে না পেরে হিজড়াটা কে হিজড়া পট্টি তে ফেলে রেখে যায় মা-বাবা।
এই সিনেমার ডাইরেক্তর এই বিষয়টা এত সুন্দর করে ফুটায়া তুলছে যে হলের সবাইকে কান্দায়া ছারসে। আমি কান্দি নাই, কিন্টু ভালই কস্ট পাইসি।
খুব ভাল করে আমিও ভেবে দেখলাম …হিজড়াদের দোষ কি? ওদের আমি কেন ঘ্রিনা করি? ওদের কে কেউ কাজ দেয়না বলেই তো ওরা ভিক্ষা করে! ওদেরকে তো ওদের মা বাবাই ফেলে দেয়! এর চেয়ে দুক্ষের আর কি হতে পারে? হিজ্রাদের কে মা-বাবাও সন্তান হিসাবে দাবি করে না।
আমার চ্যাম্বারে প্রতি বুধবার হিজড়াদের এক্টা দল আসে টাকা নিতে। মাত্র ৫ টাকা ওদের চাদা। আমি ঘেন্নার চোটে পিয়নকে টাকা দিয়ে বিদায় করে দিতে বলি। সবাই তাই করে। কিন্তু আর ঘ্রিনা নয়। আল্লাহের কাছে মাপ চাই তার এই স্রিস্টিকে ঘ্রিনা করার জন্য। হে আল্লাহ! আমি আর ওদেরকে ঘ্রিনা করব না। ওদের (হিজ্রাদের) কাছে মাপ চাইতে পারলে ভাল হইত, কিন্তু সেইটা আমার দারা সম্ভব নয়।
where r u now at the moment?
(Source: riditahamid)
আমি যা কিছু করছি তা শুধুই মানবিকতা, এর বেশী কিছু না। একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি আমার সামান্য সহমর্মিতা। তুমি যদি আমার wife নাও হতে, তবুও তুমি আমার কাছ থেকে এই সহযোগিতা গুলো অবশ্যই পেতে।
আমি তোমাকে কখনো ভালবেসেছি কিনা জানিনা। তোমার ভালবাসাও আমি প্রত্যাশা করিনা। তুমি আমাকে আর কতটুকুই ভালবাসতে পারবে? তোমার ভালবাসার খমতা আছে কিনা সেটাও আমার জানা নাই।
তুমি এই ভাল, এই মন্দ। তুমি প্রায়ই ভুলে যাও যে আমি তোমার husband, প্রতিদ্বন্দ্বী নই। আমি তোমাকে বিয়ে করেছি প্রতিপক্ষ বানানোর জন্য না, আপন করে বুকের ভিতর আগলে রাখার জন্য।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে তোমার কোনো যোগ্যতা নাই আমার ভালবাসা পাবার। তবুও ভবিষ্যৎ এর প্রতি চেয়ে রইলাম, যদি তুমি বদলাও.. যদি তোমার সঠিক বোধোদয় হয়
সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম। ভালো থেকো।
আমার এক বন্ধু জাভা ফোন USE করে। সে আমার android ফোন কিনার পুর্বে একটা trail দিল। সে ফোন টা দিয়ে ফেসবুকে ঢুকল। ফেসবুকে ঢুকে সে friend list খুজতে লাগলো, জাভা ফোনের মত friends list টা a-z ভার্সনে না আসায় সে ফোন টা আর নিতে চাইল না। সে বলল, “এর চেয়ে আমার জাতভাই (জাভা ফোনটাই) ভাল “।
আমার আর এক বন্ধু (যিনি টুইটার use করেন) আমাকে টুইটারে মেনশন দিয়ে জানাল সে lumia use করে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছে যে সে জিবনে আর নকিয়া use করবে না। lumia এর মত বাজে ফোন সে নাকি জিবনে use করেনি। Microsoft আর Nokia কে কোনদিন সে মাপ করতে পারবে না।
উপরের দুই বন্ধুকেই আমি কোন দোষ দিতে চাই না। কারন মানুষ হিসেবে তাদের নিজস্ব চিন্তা ভাবনা থাকবে, রুচিবোধ থাকবে এটাই সাভাবিক। আমি শুধু বলতে চাই…. কিছু কিছু মানুষ খুব সাভাবিক, খুব সহজ, খুব simple জিনিসটা কেন বুঝতে পারেনা? কেন? এরা কি ছোটবেলায় horlicks খায় নাই? (আমিও তো খাই নাই)
বোধশক্তি আল্লাহ প্রদত্ত জিনিস, এইটা হর্লিকস খাইয়া পাওয়ার জিনিস না (#realized)। কিছু কিছু বেক্তি কে দেখি যেকোন যুক্তির খেত্রেই দুনিয়ার statistics দিয়া ভইরা ফালায়। বোধশক্তি statistics দিয়ে অর্জন করা যায় না। state শুধু সংখ্যা গননা করতে পারে। কোনটা বেশি ভাল, কোনটা খুবই খারাপ … এগুলো পরিমাপ করতে সুস্থ বিবেকবোধ লাগে।
সুস্থ বিবেকবোধ জাগ্রত করতে হলে একটা ছোট্ট জিনিসের দিকে খেয়াল রাখতে হয়, আর তা হচ্ছে নিরপেক্ষ দৃষ্টি। নিরপেক্ষ দৃষ্টি বোধ আল্লাহ প্রদত্ত নয়, আপনি চাইলে নিজেও অর্জন করতে পারবেন। একটু try করেই দেখুন না।!!